Ficool

Chapter 16 - Unnamed

#পর্বসংখ্যা১৪

‎#হ্রদয়ামিলন

‎#Shavakhan

‎বিশাল অগ্নিকুণ্ডের সামনে বসে আছে ছয় বছরের এক বালক। চোখের সামনেই তার পছন্দের নামী দামী সকল ট্রয় গুলো ঝলসে যাচ্ছে। সে নির্ভীক ভাবে তাকিয়ে আছে। হাতে এখনো তার 'প্রিমিয়াম আর সি মনস্টার ট্রাক'। দুহাতে আঁকড়ে চেপে ধরে আছে, যেন আজ এটিকে সে নিজের থেকে কিছুতেই আলাদা হতে দিবে না। একটু পরেই তার কানে আসে তার মায়ের চিৎকার,

‎ -"আই টোল্ড ইউ এগেইন, থ্রো দিস ট্রয় ইন্টু দ্য ফায়ার রাইট নাউ"

‎কিন্তু ছেলেটির মাঝে কোন প্রকার হেলদোল দেখা গেল না। না সে কাঁদছে, না সে নড়ছে। এখনো ট্রয়টি বুকের সাথে চেপে ধরে আছে দুহাতে। সামনে জ্বলমান অগ্নিতে দৃষ্টি নিবদ্ধ। মহিলাটি ভীষণ বিরক্ত, এবার সে নিজেই ছেলেটির হাত থেকে ট্রয়টি কেড়ে নেওয়ার জন্য হাত বাড়ায়। ছেলেটা নিজের সর্বশক্তি দিয়ে নিজের সাথে ট্রয়টিকে দুহাতে চেপে ধরে, যেন শেষবারের মতো তাকে বাঁচানোর অদম্য চেষ্টা। কিন্তু শেষ রক্ষা আর হলো কই? এক ঝটকায় তার থেকে তার ট্রাকটি কেড়ে নিয়ে ছুড়ে ফেলে দিল ঝলসানো অগ্নিদাহে। সঙ্গে সঙ্গে জ্বলে ওঠল তার ট্রাকটি। তখনই পিছন থেকে ভেসে আসে রুক্ষ পুরুষালী স্বর,

‎ -"তুমি ওর সাথে এমন কেন করছ? ও আমাদের ছেলে।

‎মহিলাটি এবার লোকটির দিকে তাকিয়ে তর্জনী উঁচিয়ে হুমকি দিল,

‎ -"তুমি একদম কথা বলবে না আমাদের মাঝে"

‎লোকটা কিছুটা দমে গেলো বুঝানোর ভঙ্গিতে বললো,

‎ -"দেখো ও একটা বাচ্চা ছেলে ওর পছন্দ থাকতেই পারে"

‎এবার মহিলাটি চড়া গলায় বলে দিলেন,

‎ -"এগুলো পছন্দ নয়, এগুলো দুর্বলতা। আমি ওকে স্ট্রং বানাতে চাই।"

‎সামনে থাকা ব্যক্তি রেগে গেলেন, চিৎকার করে বলেন,

‎ -"তুমি ওকে পাগল বানাচ্ছ, এইটুকু বয়সে ও হাসতে ভুলে গিয়েছে কাঁদতে ভুলে গিয়েছে"

‎মহিলাটিকে লোকটাকে কিছু না বলে বাচ্চাটির দিকে অগ্নি দৃষ্টিতে তাকায়,

‎ -"আমার আদেশ আমান্য করার পরিণাম তোমাকে ভুগতে হবে"

‎এই বলে গার্ডসদের দিকে হাঁক ছুঁড়লেন। সাথে সাথে দুজন গার্ড এসে হাজির। তাদের দিকে তাকিয়ে আদেশ ছুড়লো,

‎ -"আজ সারারাত ওকে সেলে রেখে দেবে"

‎কিন্তু ছেলেটির কোনরকম ভাব পরিবর্তন হলো না। সে এখনো একবার নিজের হাত তো একবার সামনের অগ্নিকুণ্ড দেখছে। এই হাতে এখনই ট্রাকটি ছিল, এখন নেই শূন্য। তার পাশ থেকেই তার মা-বাবার চিৎকার ভেসে আসছে। সে সবকিছু উপেক্ষা করে আগুনের দিকে ছোট ছোট কদম ফেলে এগিয়ে যায়। আগুন তার গা ছুই ছুই...

‎ এমন সময় আরজের ঘুম ভেঙ্গে যায়। ধরপড়িয়ে ওঠে বসে সে। দুই হাতে নিজের মাথা চেপে ধরে। আবার,,,আবার তার ভয়ঙ্কর অতীত স্বপ্নরূপে ফিরে আসতে চাইছে। আরজে উঠে মোবাইল হাতে কাউকে মেসেজ পাঠিয়ে দে,

‎ -"আ'ম কামিং"

‎ তারপর রেডি হয়ে রিসোর্টের পার্কিং লটে চলে যায়। সেখানে তার জন্য দাঁড়িয়ে আছে বিলাসবহুল রোলস্ রয়েলস্। একজন বলিষ্ঠবান চাইনিজ গার্ড তাকে দেখে কুর্নিশ করে সম্মান জানিয়ে গাড়ির দরজা খুলে দিল। আরজে গাড়িতে ওঠার সাথে সাথেই গাড়ি চলতে থাকল আপন গতিতে।

‎________________

‎এসপি প্রথমে কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে দাঁড়িয়ে, কে হতে পারে। কিন্তু যখনই তার কানে 'ফারাদ ভাই' শব্দখানা এসেছে, তখনই বুঝতে আর অসুবিধা হলো না। এই পৃথিবীতে শুধুমাত্র একজনই তাকে এই নামে ডাকে। জড়িয়ে ধরা মানবীর হৃদস্পন্দন দ্রুত গতিতে চলছে। এসপি স্পষ্ট বুঝতে পারছে। নাহ এই মেয়েকে আর লাই দেওয়া যাবে না। এসপি একটানে তাকে সামনে এনে দাঁড় করিয়ে শক্ত কণ্ঠে বলে,

‎ -"হোয়াটস রং উইথ ইউ সানি, এভাবে সাপের পেঁচিয়ে ধরেছিস কেন?"

‎কিন্তু সানিতার এখনো কোনো হেলদোল দেখা গেল না। সে এখনো এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে। এসপি ভীষণ বিরক্ত, সে সানিতার পাশ কাটিয়ে কয়েক কদম এগিয়ে আবার ফিরে আসে,

‎ -"এই তুই এখানে, তাহলে তোর যমদূত বাপ কোথায়?"

‎সপ্তদশী কন্যা এবার রেগে গেল। তার পাপাকে কেউ কিছু বললে তার সহ্য হয় না।

‎ -"তুমি আমার পাপাকে কি বললে?"

‎এসপি এদিক ওদিক উঁকি দিচ্ছিল। সানিতার রুষ্টস্বর কানে আসতেই ভ্রু উঁচিয়ে বলে,

‎ -"ওলে বাবালে একদম পাপা কি পারী..."

‎তার বাক্য সম্পূর্ণ হলো না, তার আগেই শোনা গেল ভারীক্কি পুরুষালী কন্ঠ,

‎ -"সারফারাদ, এটা তোমার বাড়ি আসার সময়?"

‎এসপি এই ভয়টাই পাচ্ছিল। যার জন্য সে দেরি করে এসেছে। এসপি সিড়ির দিকে মুখ কচুমাচু করে তাকায়। পাশে দাঁড়িয়ে থাকা সানিতা ঠোঁট টিপে হাসছে। তার পাপা এখন এসপির ক্লাস নিবে। ভারী ভারী কদম ফেলে আসছে 'খুশদিল ফারুকী' এসপির মামা। যিনি বর্তমানে 'গিনির' হেড ডিরেক্টর। সানিতা ফারুকী তার একমাত্র মেয়ে।

‎ -"ভালো ছেলেরা এত রাতে বাইরে থাকে না। অবশ্য আমি বলছি বা কাকে?"

‎এসপি স্পষ্ট বুঝতে পারছে তাকে তিরস্কার করা হচ্ছে। সে মনে মনে তার মামাকে হাজারটা গালি দিয়ে দোয়া করলো

‎ 'হে উপরওয়ালা কাউকে পাঠাও'

‎ তার দোয়া কবুল হলো পিছন থেকে তার মা 'রাহেলা চৌধুরী' এগিয়ে আসলেন। ভদ্রমহিলা ভালো করেই নিজের ছেলের চাহনি বুঝতে পারছেন। তিনিও ঠোঁট টিপে নিজের হাসি সংবরণ করে বললো,

‎ -"এসপি তুই যাহ গিয়ে খেতে বস। সানিতা এখনো তোর জন্য বসে আছে। সানিতা মা তুইও যা।"

‎এসপি ব্যাস এই সুযোগটাই খুজছিল। সে কোন দিকে না তাকিয়ে ডাইনিং এর দিকে দৌড় দিল। পিছন পিছন সানিতাও গেল।

‎সার্ভেন্ট খাবার পরিবেশন করে চলে যায়। এসপি আর সানিতা ডাইনিং টেবিলে বসে। কিন্তু সানিতা খাচ্ছে কম এসপির দিকে তাকাচ্ছে বেশি। যেন বহু দিনের তৃষ্ণা মেটাতে ব্যস্ত। এসপি স্পষ্টভাবে বুঝতে পারছে তা। কিন্তু এই মেয়েকে বোঝানো অসম্ভব, মরীচিকার পিছনে ছুটছে সে। হঠাৎ সানিতার নাকে মুখে উঠে গেল। এসপি তড়িঘড়ি করে এটো হাতেই তাকে পানি গ্লাস এগিয়ে দিলো। চোখেমুখে উদ্বেগের চাপ স্পষ্ট তার। দিল এক রামধমক,

‎ -"খাবারের সময় এত দিকে তাকালে এমনই তো হবে"

‎সানিতা কিছু না বলেই এসপির হাত থেকে গ্লাস নিয়ে নিল। এসপি উঠে চলে যায়। পিছনে ফেলে যায় মুচকি হাসি দিয়ে তাকিয়ে থাকা এক সপ্তদশীকে।

‎_________________

‎ 'গিনি' ফ্যাশন হাউসে সারহাদের কেবিনে তার সামনে বসে আছে 'রিয়ানা জাওয়ান'। সারহাদ নিজের গোল্ডেন ফ্রেমে বাঁধানো সাদা সানগ্লাসটা মধ্যমা দিয়ে একটু ঠেলে মনোনিবেশ করেছে হাতে থাকা ফাইলে। 'জেবি প্রোডাকশন হাউস' তাদের পরপর দুটি মুভির জন্য সারহাদকে অফার করেছে। সামনে বসা রিয়ানা বেখেয়ালিভাবে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে শ্যাম পুরুষের দিকে। তার চব্বিশ বছরের জীবনে প্রথম কাউকে দেখে সে মুগ্ধ হতে বাধ্য হয়েছে। সারহাদ ঠাস করে ফাইলটা টেবিলে রাখল। শব্দ কানে আসতেই রিয়ানার ঘোর কেটে গেল। সে নিজেই নিজের কাজে লজ্জিত হলো। তাই তড়িঘড়ি করে বলে উঠলো,

‎ -"সো মিস্টার চৌধুরী, আপনার কি মতামত?"

‎সারহাদ চোখ তুলে তাকাল,

‎ -"আই এগ্রি, আম রেডি টু ওয়ার্ক উইথ 'জেবি' কিন্তু টিম আমার মতে গঠন হবে"

‎সামনে বসা রিয়ানা সারহাদের যে কোন শর্তেই রাজি হয়ে যেত,

‎ -"তাহলে সাইন করা যাক"

‎সারহাদ উচ্চশব্দে হেসে উঠলো। রিয়ানা তার হাসির কারণ খুঁজে পেল না। সারহাদ হাসি থামিয়ে বলে,

‎ -"নিশ্চয় আপনার মা আমাকে শুধু স্কিপ্ট দেখাতে বলেছে, সাইন করতে বলে নাই

‎রিয়ানা হতবাক, হ্যা তার মা এটাই বলেছে কিন্তু সারহাদ কিভাবে জানল। কোন মাইন্ড রিডার নাকি? তাকে আরো অবাক করে দিয়ে ভেসে আসে সারহাদের পুরুষালী কণ্ঠ,

‎ -"আম নট আ মাইন্ড রিডার, বাট আই ক্যান গেস্, আম অলসো আ বিজনেসম্যান। উনি মুভির সাইনটা ঐদিন করাতে চান যেইদিন আরজের 'ইনফিনিটি' মুভির ফাস্ট টেইলার রিলিজ হবে। একসাথে দুটি প্রচারণা।

‎সারহাদ এবার পায়ের উপর পা তুলে বসে নিজের দাম্ভিকতা বজায় রেখে বলে,

‎ -"দিস ইজ বিজনেস মিস রিয়ানা জাওয়ান,

‎ মানে একডিলে দুই পাখি।"

‎রিয়ানা অবাক নয়নে তাকিয়ে। সে আরো বেশি ইমপ্রেসড্। সারহাদ তার দিকে একটা ফাইলে প্রথম পেজে সাইন করে এগিয়ে দে,

‎ -"আপনার এখনো আপনার মায়ের থেকে অনেক কিছু শিখা বাকি।... উনি রক্তের খেলায় বেশ আসক্ত"

‎শেষ কথাখানি সারহাদ নিচু স্বরে বলে রিয়ানা শুনতে পাইনি। রিয়ানা হ্যান্ডশেইক এর জন্য নিজের হাতখানা বাড়িয়ে দেয়। সারহাদ একবার তার হাতের দিকে তাকায়, তার হাতও বাড়িয়ে ঠিক রিয়ানার হাতের পাশ থেকে অন্য ফাইল টা নিয়ে ওটাতেও সাইন করে ওর হাতে দিয়ে দেয়। রিয়ানা কিছুটা অপমানিত বোধ হলেও পরপর নিজেকে সামলে নেয়।

‎সানা আর এসপি কিছুক্ষণ আগে গিনিতে এসেছে । সারহাদের কেবিনের দিকে যেতেই সানার চোখে পড়ে রিয়ানা। এসপি বেখেয়ালিতে হেঁটেই চলছে। সানা হঠাৎই এসপির হুডির টুপি ধরে এক হেচকা টানে তাকে পিছনে নিয়ে আসে। এসপি রেগে যায়,

‎ -"তুই আমাকে টান দিলি কেন?"

‎সানা ফিসফিস করে বলে,

‎ -''আবে বিচকেলের বাচ্চা সামনে দেখ

‎ সামনে দেখ"

‎এসপি সামনে সারহাদের অফিসের দিকে তাকায়। কাচের গ্লাস দিয়ে দেখা যাচ্ছে রিয়ানা।

‎ -"এই রিয়ানা এখানে কেন?"

‎সানা বিরক্তি সূচক দৃষ্টিতে তাকায়,

‎ -"এমন ভাবে বলছিস যেন আমাকে বলে এসেছে।"

‎এসপির মুখে দুষ্ট হাসি ফুটিয়ে তোলে সানার দিকে তাকায়,

‎ -"আচ্ছা আমি যদি তোর ননদকে পটিয়ে ফেলি তাহলে কেমন হবে বল?"

‎ -"আর আমি যদি তোর কানের নিচে বাজাই তাহলে কেমন হবে বল?"

‎এসপির মুখটা ফাটা বেলুনের মতো ফুস হয়ে যায়।

‎রিয়ানাকে বেরিয়ে আসতে দেখেই দুজনে উল্টো ঘুরে যায়। রিয়ানা তাদেরকে লক্ষ্য না করেই চলে যায়। তার চোখে মুখে খুশির চাপ।

‎গত ৩০ মিনিট ধরে সানা সারহাদের সামনে বসে। সানা ভীষণ বিরক্ত সারহাদ অলরেডি পাঁচবার দেখেছে ডিজাইন গুলো। এসপিকে সারহাদ কোন কাজে পাঠিয়েছে। এর মাঝে সানার মোবাইলে টুং করে মেসেজ আসে। সে মোবাইল অন করে দেখে আরজের নতুন নাম্বার থেকে আসা আরেকটা হুমকি,

‎ -''তোমার সাহস দেখে আমি অবাক, সানা এই মুহূর্তে আমাকে আনব্লক কর। না হলে আমি তোমার খবর করব।"

‎সানা চুপচাপ এই নাম্বারটাও ব্লক লিস্টে ফেলে দিল। সকাল থেকে সে দুই তিনটা নাম্বার ব্লকলিস্টে ফেলেছে। সানা বুঝতে পারছে না এই লোকের সমস্যা কি? যখন খোঁজখবর রাখার কথা তখন তো রাখেনি, এখন অন্য কারোর সাথে থেকে তার খোঁজ নিচ্ছে। সানা চোখ তুলে সামনে তাকাতেই দেখে সারহাদ এখনো তার ডিজাইন গুলো দেখছে। সানার কেমন জানি মনে হলো, সারহাদ এতক্ষণ ধরে তার দিকেই তাকিয়ে ছিল। সারহাদ গলা খাঁকারি দিয়ে বলে,

‎ -"সো সিমরান"

‎ -"হ্যাঁ, দেটস মাই প্রফেশনাল নেম"

‎সারহাদ বাঁকা হেসে সানার চোখের দিকে তাকিয়ে বলে,

‎ -"আই লাইক ইট, ইন ইউর ডিজাইন সামথিং হ্যাভ স্পেশাল। ইউ আর সিলেক্টেড"

‎সানা তৎক্ষণাৎ বলে,

‎ -"আই হ্যাভ এ কোয়েশ্চেন"

‎ -"ইয়াহ সিওর"

‎সানা ভনিতা ছাড়াই বলল,

‎ -"আমি কি এসপির ফ্রেন্ড হিসেবে সুযোগ পাচ্ছি নাকি নিজের যোগ্যতায়?"

‎সারহাদ শব্দ করে হেসে দিল। সানা ভ্রুকুটি করে তাকায় সারহাদের দিকে। তার কেমন অদ্ভুত লাগছে,

‎ -"হোয়াট ইউ থিংক? সিমরান..."

‎ -"আই ডোন্ট ওয়ান্ট এনি সিমপ্যাথি, আই ওয়ার্না টু প্রুভ মাইসেল্ফ।"

‎সারহাদ নিজের চেয়ার ছেড়ে উঠে দাঁড়ালো, এগিয়ে গেল সানার দিকে। টেবিলে এক হাত ঠেস দিয়ে সানার দিকে কিছুটা ঝুকে পুরুষালী হাস্কিস্বরে শুধায়,

‎ -"এন্ড আই গিভ ইউ আ চান্স টু প্রুভ ইউরসেল্ফ"

‎সানা ঘাড় কাত করে চোখ তুলে তার দিকে তাকাতেই সারহাদ সরে যায়। সানা সাইন করে দেয়। সে মুখে বলে,

‎ -'থ্যাংক ইউ"

‎ -"ইউ আর ওয়েলকাম টু দ্য গিনি"

‎ সানা চলে যায়। পিছনেই সারহাদ উচ্চশব্দে হেসে বলে,

‎ -"অলসো মাই ওয়াল্ড"

‎সানা নিচে আসতেই এসপির সাথে এক ছোট ঝগড়া হয়ে যায় ড্রাইভিং শিখা নিয়ে। সানা আজকেই শিখতে চায় কিন্তু এসপি বারবার বলছে তার উপরওয়ালার কাছে এত তাড়াতাড়ি যাওয়ার শখ নাই। সে আরো কিছুদিন পৃথিবীতে বেঁচে থাকতে চায়। তারও বেঁচে থাকার অধিকার আছে। এখনো তার বিয়েও হয়নি। বিয়ের আগে সে তার বউকে বিধবা করতে চায় না । এক পর্যায়ে সানা এসপির পিঠে আর বাহুতে ধুমধাম কয়েকটা কিল বসিয়ে, মুখ বাঁকিয়ে চলে যায় গাড়ির দিকে।

‎পাঁচ তলা থেকে কাঁচের গ্লাসের ফাঁক গলিয়ে সারহাদ এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে সানার দিকে, চোখে মুখে রহস্যময় হাসি। তার মুখ থেকে নিঃসৃত হয় কয়েকটি শব্দ,

‎ -"I love to play with danger, and you're the danger"

‎ ____________________

‎সানার বাড়ি আসতে প্রায় রাত আটটা বেজে যায়। গিনি থেকে তাদের ফ্ল্যাট একটু দূরেই। কিন্তু পার্কিংলটে পা রাখতেই সে কারো উপস্থিতি টের পায়। ব্যাগ হাতড়ে আত্মরক্ষার জন্য কিছুই পেল না। সানা মোবাইল বের করে এসপির সাথে কথা বলার ভান করে লিফটের দিকে এগিয়ে যায়। লিফটের সামনে আসতেই এক দৌড়ে লিফটে ঢুকে বারবার সেভেন এ প্রেস করতে থাকে। লিফট বন্ধ হওয়ার আগেই পিছনে থাকা ব্যক্তি সানার মিথ্যা ধরে পেলে। সেও সানার পিছন দৌড়ে যায় নিজের ট্যাটু কচিত হাতখানা বাড়িয়ে দেয় লিফটের দিকে।

‎-চলবে.....

More Chapters