Ficool

Chapter 7 - Unnamed

‎#পর্বসংখ্যা৮

‎#হ্রদয়ামিলন

‎#Shavakhan

‎আজকে আরজের বাংলাদেশে শুটিংয়ের শেষ দিন।ডিরেক্টর অলরেডি আরজে কে বিশ বারের উপর কল দিয়েছে। সে সানার সাথে কথা বলার সময়েও দুবার তার ফোন বেজে ওঠেছে। কিন্তু আরজের মাথায় রাগ চড়ে গেল যখন সানা বলেছিল,

‎ -"আপনি নিচে গিয়ে নিজের গার্লফ্রেন্ডর খেয়াল রাখুন না, আমার মাথা কেন খাচ্ছেন।"

‎এই বলে সানা বেলকনিতে যেতে নেবে তার আগেই আরজে আকস্মিক ভাবে এক হেঁচকা টানে তাকে দেওয়ালের সাথে চেপে ধরে। সানা একটু অবাক হয় কেননা আরজে এমন কিছু করবে এটা তার ভাবনাতেই ছিল না। পরক্ষণেই নিজেকে সামলে নেয়। আরজের চোখে চোখ রেখে নির্ভয়ভাবে জিজ্ঞেস করলো,

‎ -"এটা কেমন বিহেভ?"

‎আরজে নিজের মুখটাকে একদম সানার নিকটে নিয়ে আসে।তার গরম নিঃশ্বাস সানার চোখে মুখে আছড়ে পড়ছে। সানার এতে কোন হেলদোল দেখা গেল না।শোনা গেল একটা হাস্কি ও গম্ভীর স্বর,

‎ -"যখন তোমার স্বামী অন্য একটা মেয়েকে কোলে নিবে, তখন তোমার ভালো লাগবে?"

‎সানা মনে মনে তাচ্ছিল্য করে হাসলো, সে অলরেডি দেখেছে আর এই লোক কী বলছে,

‎ -"ভালো তো জানি না, তবে খারাপ লাগবে না এটা জানি। আর এমনভাবে বলছেন যেন আপনি সাধু পুরুষ।"

‎ -"দেখ আমি তোমাকে প্রথম দিনেই বলেছি, আমার কাছে রিয়ানা, নাতাসা আর ঈশানী একই,আমার ছোট বোনের মতো।"

‎ -"হুম আই আন্ডারস্ট্যান্ড, নাউ লিভ মি"

‎কিন্তু আরজের কোনো হেলদোল হলো না। সে প্রথমবারের মতো সানার চোখের গভীরে তাকালো। একটা অজানা শিহরণ তার সারা শরীর জুড়ে বেয়ে গেল। সে শুধু এই অনুভূতিগুলো থেকেই পালাতে চায়। সানার অবাধ্য চোখ যেন তাকে কাছে টানছে।সে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। সানার এদিকে কোন খেয়াল নেই। সে নিজের হাত ছাড়াতে ব্যস্ত।

‎হঠাৎ আরজের ফোন খানা তীব্র শব্দে ঝংকার দিয়ে বেজে উঠলো। আরজের হুঁশ ফিরতেই সে সানাকে ছেড়ে দিল। একটু দূরে গিয়ে জোরে জোরে শ্বাস নিয়ে নিজেকে সামলে সানার দিকে তাকায়,

‎ -"We will talk, when i back"

‎এই বলে সে চলে গেল। এদিকে সানা নিজের হাত ঢলতে ঢলতে আরজে কে গালি দিতে শুরু করল,

‎ -"শালা কুত্তা*মার্কা, জাউরা কোথাকার, সাধে কি আর আমি তোকে জাউরা বলি।"

‎সানা একটা ভেংচি কেটে মোবাইলটা নিয়ে এসপিকে কল করল।

‎__________________

‎আরজে তড়িঘড়ি করে শুটিংয়ের জন্য যেতে নেয়। কিছুক্ষণ আগে মিসেস সোফিয়া জাওয়ান কল করেছে, আজকে একটা গুরুত্বপূর্ণ মিটিং আছে। সে যেন শুটিং এর পর কোম্পানিতে যায়। সে দরজার কাছে যাওয়ার আগে মিসেস আয়েশা বলেন,

‎ -"বাবা কিছু না মনে করলে একটা কথা বলি"

‎এই কদিনে সানার পরিবর্তন তার নজরে এসেছে। যেই সানা আরজে কে ছাড়া রাতে খাবার খেতো না, সেই সানা কাল রাতে আরজের অপেক্ষা তো দূর তার কথাও জিজ্ঞেস করেনি। তার উপর কাল রাতে তিনি সানার চিৎকার ও শুনেছেন। সানাকে উনি নিজের মেয়ের মতই ভাবেন। সানাও তাকে মায়ের মতো সম্মান করে।

‎আরজে পিছু না ফিরেই জবাব দেয়,

‎ -"জি বলেন"

‎-"জানো সময় আর মানুষের মধ্যে একটা সাদৃশ্য আছে, দুজনকেই গুরুত্ব না দিলে অতি সহজেই হারিয়ে যায়। সময় কে ঠিক মত কাজে না লাগালে জীবনে সার্থক হওয়া যায় না, তেমনি সঠিক মানুষটাকে আগলে না রাখলে জীবনে আফসোসের শেষ হয় না । আমরা সব সময় তখন সবকিছুর মর্ম বুঝি যখন শত চেষ্টা করেও আর ফিরে পাওয়া সম্ভব হয় না।"

‎আরজে খুব ভালো মতোই বুঝতে পারছে উনি কি বলতে চাইছেন। সে মুখে কিছুই বললো না শুধু ঠোঁটের কোণে তাচ্ছিল্যের হাসি দিয়ে মনে মনে ভাবলো,

‎ -"আমার যে আগলে রাখার কেউই নেই। না ফার্স্টে ছিল, না প্রেজেন্টে আছে, আর না ফিউচারে থাকবে। এই অনিশ্চিত জীবনে আমি কাউকেই জড়াতে চাই না।"

‎-_________________

‎ -"এসপির বাচ্চা তোকে আমি বলেছি, সকাল দশটার আগে তুই একাডেমিতে থাকবি। আর এখন দশটা বাজতে চলল, এখনো তুই ঘুম থেকে উঠিস নি "

‎ -"পেস্ট্রি সত্যি বলছি, আমি দড়জায় দাঁড়িয়ে আছি "

‎ -"কোথাকার দরজায়? একাডেমির না বাড়ির?"

‎ -"ইয়ে মানে বাথরুমের "

‎ -"কুত্তা* একবার তোকে সামনে পাই, আমি তোর কানের নিচে এমন বাজান বাজাবো না, সারা জীবন বাজঁতেই থাকবে"

‎এসপি কান থেকে মোবাইল একটু দূরে নিয়ে গেল আর বিড়বিড় করে বলল,

‎ -"মোবাইলেই তো কান বাজছে, আর বাজালে তো সারা জীবন বাজঁতেই থাকবে।"

‎____________

‎আজকে সারা দিন আরজের ব্যস্ততায় কেটেছে। এক মিনিট দাঁড়ানোর ফুরসত পায়নি কারণ কালকেই তাকে দুবাই যেতে হবে। তার ওপর তার মা বলেছে, আরজে যেন জাওয়ান ম্যানশনে যায় ঈশানীকে নিয়ে। তাদের সাথে পরবর্তী মুভির স্ক্রিপ্ট নিয়ে কথা আছে। কিন্তু আরজে সানাকে নিয়ে যেতে চায়। তার জন্য কখন থেকে কল করছে সানাকে। কিন্তু এই মেয়ের নাম্বার বারবার বন্ধ আসছে। এই পর্যায়ে সে বিরক্ত হয়ে মিসেস আয়েশাকে কল করলো, যেন তিনি সানাকে জানিয়ে রাখেন

‎_________________

‎সন্ধ্যা বেলা সানা পার্কিংলটে দাঁড়িয়ে, আরজে কিসের ফাইল আনতে উপরে গেছে। একটু পর তার কানে এলো হইহিলের ঠকঠক আওয়াজ। সে পিছন ফিরে দেখল, ঈশানী একটা অফ শোল্ডার নীল গাউন পড়ে আসছে। মুখে ভারী মেকাপের আস্তরণ। এসেই সানার দিকে তাকিয়ে বাঁকা হেসে বলল,

‎ -"তুই জানিস ডইনি, আমি কেন আরজে কে এখনো বলিনি?"

‎সানা নিজের হাতের মোবাইলে দৃষ্টি রেখে বললো,

‎ -"আমি কিভাবে জানবো, তুই কেন বলিস নি?"

‎ -"কারণ আমি এমন ভাবে প্রতিশোধ নেব....

‎ঈশানী আর কিছু বলার আগেই সানা গাঁ কাপিয়ে হাসলো,

‎ -"শোন নীলনাগিন, আমার এসব নাগিন সিরিয়ালের মত প্রতিশোধে কোন ইন্টারেস্ট নাই। আমি এ্যাকশেনে বিশ্বাসী। আর ওই আরজে কে তুই তোর আঁচলেই বেঁধে রাখ।আই ডোন্ট ফাকিং কেয়ার। শুধু আমার রাস্তায় আসবি না। তাহলে আজকে যেভাবে ধাক্কা দিয়েছি না, এভাবে গলা টিপে দিতেও আমি একবারও ভাববো না"

‎শেষ সানা চলে গেল গাড়িতে ওঠার জন্য। ঈশানী মুখ বাকিয়ে তাকে বকা দিতে থাকলো। সে ফ্রন্ট সিটের দরজা খুলে বসার আগেই, এখানে আবার বাঁধ সাধলো ঈশানী। সে নাকি সামনে আরজের সাথে বসবে।

‎ সানা এই বিষয়ে কিছু বলেনি নিঃশব্দে পিছনে চলে গেছে। এমনিতেই তার মাথা ব্যথা করছে, সারাদিন ডিজাইন করার জন্য। ঈশানী একটু অবাক হল সানা এত সহজে তাকে ছেড়ে দিল। তবে সে ভীষণ খুশি আরজের সাথে বসবে সানার সামনে।

‎ আরজে একটু পর আসলো, সানার দিকে তাকালো, যে এই মুহূর্তে দিন দুনিয়া ভুলে নিজের ফোন ঘাটতে ব্যস্ত। আরজে ফ্রন্ট সিটের দরজা খুলে সানা কে বলল,

‎ -"সানা কাম আউট"

‎সানা বুঝতে না পেরে তার দিকে তাকালো। আরজে আবার বললো,

‎ -" আই সেইট গেট ডাউন"

‎ সানার ভীষণ রাগ হলো তবে সে কিছু না বলে নিঃশব্দে গাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ে। ঈশানী খুশিতে আত্মহারা। কিন্তু কিছু সেকেন্ড পরেই তার মুখ ফ্যাকাসে হয়ে গেল, যখন দেখলো আরজে ড্রাইভিং সিট থেকে তার কোটটা তুলে নিয়ে কামাল কে বলল,

‎ -"কামাল, ঈশানীকে নিয়ে যাও। আমি আর সানা অন্য গাড়িতে আসছি।"

‎ঈশানীর মনে আঁধারের ঘনঘটা, সে কিছু বলার আগেই কামাল গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে পড়ল।

‎আরজে নিজের অতি পছন্দের কালো বিএমডব্লিউ এর কাছে এসে দেখে সানা নাই। কোথায় গেল মেয়েটা? চার পাশে তাকিয়ে দেখলো সানা মোবাইল হাতে অদূরে দাঁড়িয়ে। আজকাল মেয়েটা মোবাইল নিয়ে বেশি ঘাটাঘাটি করে। সে গাড়িটাকে নিয়ে আসলো সানার সামনে,

‎ -"সানা গেট অন "

‎কিন্তু সানা যেন পাত্তাই দিচ্ছে না। সে অলরেডি এসপিকে কল করে বলে দিয়েছে, তাকে যেন এসে পিক আপ করে নিয়ে যায়। এসপি পাঁচ মিনিটের মধ্যেই চলে আসবে। এখান থেকে চৌধুরী মহল বেশি দূরে নয়।

‎আরজে সানার অপেক্ষায় গাড়িতে বসে। এই মেয়েটা আজকাল বড্ড ত্যাড়া হয়ে গিয়েছে। তাকে পাত্তাই যেন দিচ্ছে না। কেন জানি সানার এই হেয়ালিপনা তার একদম সহ্য হচ্ছে না। সে আবারও বললো,

‎ -"সানা আমার তোমার সাথে ইম্পরট্যান্ট কথা আছে তাড়াতাড়ি আসো।"

‎সানা আর কথা বাড়ালো না। সে ওই বাড়িতে যেতে চায় ঐ সোফিয়া জাওয়ানকে ছোটখাটো ডেমো দেখাতে হবে তার। কিন্তু ওঠার সময়ে তার মনে হল কেউ যেন তাকে গভীরভাবে লক্ষ্য করছে। সানা তড়াক করে পিছন তাকালো, তড়িৎ গতিতে একটা কালো ছায়া গাড়ির পেছনের দিকে সরে গেল। আরজে তাকে আসতে না দেখে আবারো ডাকলো,

‎ -"Sana hurry up, we are already late."

‎সানা গাড়িতে উঠে আবার চার পাশে তাকালো। না কাউকে দেখা যাচ্ছে না। তবে সে শিওর কেউ ছিল। আরজের গাড়ি বাইরে বেরোবে এমন সময় এসপিও গাড়ি নিয়ে হাজির হয়। সানা তাকে চোখের ইশারায় কিছু বোঝালো।এসপির বুঝার জন্য সানার ইশারাই যথেষ্ট ছিল। এসপি নিজের গাড়ি পিছনে নিয়ে যায়। আরজে এসপির গাড়ি খেয়াল করেনি।

‎___________________

‎জাওয়ান ম্যানশনের সামনে এসে আরজে গাড়ি থামায়। সানার দিকে তাকিয়ে দেখে সানা ঘুমিয়ে আছে। আরজে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রইল। কেন জানি সানা ঘুমন্ত মুখ তাকে একটু ছুয়ে দেওয়ার ইচ্ছা জাগাচ্ছে। এমনটা কোনদিন ও মনে হয়নি তার। অবশ্য সে সবসময় সানাকে অবহেলায় করে গেছে। সে কাঁপা কাঁপা হাতে তার মুখের দিকে এগিয়ে নিয়ে গেল। ঠিক ওই মুহূর্তে সানা হঠাৎ করে চোখ খুলে ফেলে। আরজে কে দেখে বললো,

‎ -"মরতে চান নাকি"

‎এই বলে সানা গাড়ি থেকে বেরিয়ে পড়ল জাওয়ান ম্যানশনের দিকে তাকিয়ে বাঁকা হাসি দিয়ে বললো,

‎ -"Dear saasu ma, Sana is coming😉"

‎ -চলবে...

More Chapters