Ficool

পলাশীর প্রান্তরে শেষ সূর্য

Nisikanta_Maity
7
chs / week
The average realized release rate over the past 30 days is 7 chs / week.
--
NOT RATINGS
70
Views
Table of contents
VIEW MORE

Chapter 1 - chapter 1

প্রথম পাতা: শান্ত গ্রামের দিনগুলো

মুর্শিদাবাদের কাছের এক ছোট্ট গ্রামে জন্ম আরিফের। তার বাবা ছিলেন নবাবের সেনাবাহিনীর একজন সাধারণ সৈনিক। ছোটবেলা থেকেই আরিফ শুনত যুদ্ধের গল্প, বীরত্বের কথা, আর দেশের প্রতি ভালোবাসার শিক্ষা।

গ্রামটা ছিল শান্ত, চারদিকে সবুজ মাঠ, নদীর ধারে তালগাছ। আরিফ বন্ধুদের সঙ্গে খেলত, নদীতে সাঁতার কাটত। কিন্তু তার মনে সবসময় একটা স্বপ্ন ছিল—একদিন সে তার বাবার মতোই একজন সাহসী সৈনিক হবে।

একদিন সন্ধ্যায় তার বাবা বললেন, "দেশের জন্য লড়াই করা সহজ নয়, কিন্তু এটা গর্বের।" সেই কথাগুলো আরিফের মনে গভীর ছাপ ফেলেছিল।

দ্বিতীয় পাতা: যুদ্ধের ডাক

১৭৫৭ সালের শুরুতে খবর এল, ইংরেজ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি বাংলার শাসন নিতে চাইছে। নবাব Siraj ud-Daulah তাদের বিরুদ্ধে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আরিফের বাবা সেনাবাহিনীতে যোগ দিতে গেলেন। আরিফও জেদ ধরল—সে যাবে। অনেক অনুরোধের পর বাবা তাকে সঙ্গে নিতে রাজি হলেন।

মুর্শিদাবাদে পৌঁছে আরিফ প্রথমবার দেখল বিশাল সৈন্যদল, যুদ্ধের প্রস্তুতি, আর উত্তেজনা। কিন্তু সেই সঙ্গে ছিল ভয়ও। সে বুঝতে পারল, গল্পে শোনা যুদ্ধ আর বাস্তব যুদ্ধ এক নয়।

তৃতীয় পাতা: বিশ্বাসঘাতকতার ছায়া

যুদ্ধের আগে সেনাবাহিনীর মধ্যে গোপন আলোচনা চলছিল। কিছু সেনাপতি, বিশেষ করে Mir Jafar, ইংরেজদের সঙ্গে গোপনে হাত মিলিয়েছেন—এমন গুজব ছড়িয়ে পড়েছিল।

আরিফ এসব বুঝত না পুরোপুরি, কিন্তু তার বাবা চিন্তিত ছিলেন। তিনি বলতেন, "বাইরের শত্রুর চেয়ে ভেতরের শত্রু বেশি ভয়ঙ্কর।"

যুদ্ধের আগের রাতে আকাশ ছিল অন্ধকার, আরিফ ঘুমোতে পারছিল না। দূরে সৈন্যদের হাঁটার শব্দ, অস্ত্রের ঝনঝনানি—সব মিলিয়ে এক অদ্ভুত উত্তেজনা।

চতুর্থ পাতা: পলাশীর যুদ্ধ

১৭৫৭ সালের ২৩ জুন, পলাশীর প্রান্তরে শুরু হল সেই ঐতিহাসিক যুদ্ধ। একদিকে নবাবের বিশাল বাহিনী, অন্যদিকে ইংরেজদের ছোট কিন্তু কৌশলী সেনাদল।

প্রথমে মনে হচ্ছিল নবাবের জয় নিশ্চিত। কিন্তু হঠাৎ দেখা গেল, অনেক সৈন্য যুদ্ধ না করে দাঁড়িয়ে আছে। তারা Mir Jafar-এর অধীনে ছিল।

আরিফের বাবা সাহস করে লড়াই চালিয়ে যাচ্ছিলেন। কিন্তু চারদিক থেকে ইংরেজদের আক্রমণ বাড়তে লাগল। আরিফ প্রথমবার যুদ্ধের ভয়াবহতা দেখল—বন্ধুদের পড়ে যেতে, আহতদের আর্তনাদ শুনতে।

শেষ পর্যন্ত নবাবের বাহিনী ভেঙে পড়ল। যুদ্ধ শেষ হল, কিন্তু সেই দিন বাংলার স্বাধীনতার সূর্যও যেন অস্ত গেল।

পঞ্চম পাতা: নতুন সূর্য, নতুন প্রতিজ্ঞা

যুদ্ধের পর আরিফ তার বাবাকে হারাল। সে একা হয়ে গেল, কিন্তু তার মনে রয়ে গেল বাবার শেখানো কথা—দেশের জন্য ভালোবাসা।

বাংলা তখন ইংরেজদের অধীনে চলে গেল। কিন্তু মানুষের মনে স্বাধীনতার আগুন নিভল না।

আরিফ বড় হয়ে শিক্ষক হল। সে শিশুদের ইতিহাস শেখাত, বলত—"আমাদের ভুল থেকে শিখতে হবে। ঐক্য আর সততা না থাকলে দেশ হারাতে হয়।"

প্রতিদিন সূর্যাস্তের সময় সে পলাশীর প্রান্তরের দিকে তাকিয়ে ভাবত, "একদিন আবার এই দেশ স্বাধীন হবে।"

শেষ কথা:

এই গল্প শুধু আরিফের নয়, এটা বাংলার ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের গল্প। যেখানে সাহস ছিল, কিন্তু বিশ্বাসঘাতকতাও ছিল। আর সেই শিক্ষা আজও আমাদের মনে করিয়ে দেয়—ঐক্যই শক্তি।