Ficool

Chapter 2 - Chapter 2: স্মৃতির ছায়া ও গোপন সত্য

Chapter 2: স্মৃতির ছায়া ও গোপন সত্য

সমুদ্রের ধারে সেই রাতটার পর অনেক কিছু বদলে গেল…

আনা এখন আর জলপরি নেই—সে পুরোপুরি মানুষ। কিন্তু তার ভিতরে এখনও রয়ে গেছে সমুদ্রের গভীর নীল স্মৃতি, আর এক অসম্পূর্ণ ভালোবাসার ব্যথা।

অয়ন এখনো প্রতিদিন সেই সমুদ্রের ধারে আসে। কিন্তু তার চোখে আনার কোনো চিহ্ন নেই—সে যেন আনার অস্তিত্বই ভুলে গেছে।

তবুও, অদ্ভুতভাবে… তার মন মাঝে মাঝে অশান্ত হয়ে ওঠে। যেন সে কাউকে খুঁজছে, কিন্তু মনে করতে পারছে না কাকে।

আনা দূর থেকে সব দেখে।

সে কাছে যেতে চায়, কথা বলতে চায়… কিন্তু ভয় পায়—যদি সবকিছু ভেঙে যায়?

একদিন বিকেলে, হালকা বৃষ্টির মধ্যে আনা সাহস করে অয়নের সামনে এসে দাঁড়াল।

— "তুমি কি আমাকে চেনো?"

অয়ন একটু অবাক হয়ে তাকাল, তারপর মাথা নাড়ল,

— "না… কিন্তু তোমাকে দেখে অদ্ভুত একটা পরিচিত মনে হচ্ছে।"

এই কথাটাই আনার বুক কাঁপিয়ে দিল।

হয়তো… এখনও সব শেষ হয়ে যায়নি।

ধীরে ধীরে তাদের আবার নতুন করে বন্ধুত্ব শুরু হলো।

অয়ন জানে না কেন, কিন্তু আনার সাথে কথা বলতে তার ভালো লাগে।

আর আনা… সে প্রতিটা মুহূর্তে নিজের পুরোনো ভালোবাসাকে লুকিয়ে রাখে।

কিন্তু সবকিছু এত সহজ ছিল না…

এক রাতে, আনা স্বপ্নে দেখে—গভীর সমুদ্রের রাজ্য।

তার মা, সমুদ্রের রানি, ভয়ংকর চোখে তাকিয়ে বলছেন,

— "তুমি ভেবেছো সব শেষ? অভিশাপের আসল খেলা এখনো বাকি…"

আনা ঘুম ভেঙে চমকে উঠল। তার শরীর ঠান্ডা হয়ে গেছে।

হঠাৎ সে লক্ষ্য করল—তার হাতের উপর হালকা নীল রঙের দাগ ফুটে উঠছে… ঠিক যেন সমুদ্রের ঢেউ!

এর মানে কী?

সে কি আবার জলপরিতে ফিরে যাচ্ছে?

পরের দিন, আনা সমুদ্রের ধারে গেল।

হঠাৎ জলের ভেতর থেকে এক রহস্যময় কণ্ঠ ভেসে এলো—

— "তুমি পালাতে পারবে না, আনা…"

জল থেকে উঠে এলো এক অদ্ভুত ছায়ামূর্তি—

সে ছিল সমুদ্রের প্রহরী, যার কাজ আনা কে ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়া।

ঠিক তখনই অয়ন সেখানে এসে পড়ে।

সে কিছুই বুঝতে পারছে না, শুধু দেখছে আনা ভয়ে কাঁপছে।

হঠাৎ সেই ছায়ামূর্তি অয়নের দিকে আক্রমণ করতে যায়—

আনা চিৎকার করে ওঠে,

— "না!!!"

সেই মুহূর্তে, আনার শরীর থেকে এক অদ্ভুত শক্তি বেরিয়ে আসে।

সমুদ্রের ঢেউ হঠাৎ থেমে যায়… বাতাস স্তব্ধ হয়ে পড়ে…

আনা বুঝতে পারে—

তার ভেতরের জলপরির শক্তি এখনও পুরোপুরি শেষ হয়নি!

সে নিজের শক্তি দিয়ে অয়নকে বাঁচায়, কিন্তু এতে করে তার শরীর আরও দুর্বল হয়ে পড়ে।

প্রহরী অদৃশ্য হওয়ার আগে বলে যায়,

— "সময়ের আগে সিদ্ধান্ত না নিলে, তুমি দুটো জগতই হারাবে…"

অয়ন সবকিছু দেখে হতবাক।

সে আনার দিকে তাকিয়ে বলে,

— "তুমি… আসলে কে?"

আনা চুপ করে থাকে। তার চোখে জল।

সে জানে, সত্য বললে অয়ন হয়তো ভয় পাবে… আবার না বললেও সবকিছু ভেঙে পড়বে।

ড্রামা টুইস্ট ✨

সেই রাতেই, অয়ন তার পুরোনো ডায়েরি খুঁজে পায়।

ডায়েরির ভেতরে একটি পৃষ্ঠা—যেখানে সে লিখেছিল,

"আজ আমি এক জলপরিকে দেখলাম… তার নাম আনা…"

অয়ন স্তব্ধ হয়ে যায়।

— "তাহলে… আমি সব ভুলে গেছি?"

তার মনে হঠাৎ ঝলকানি দেয়—

আনার হাসি, সমুদ্র, সেই রাত…

কিন্তু ঠিক তখনই ভয়ংকর কিছু ঘটে—

ডায়েরির সেই পৃষ্ঠাটা নিজে থেকেই আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে যায়!

দূরে কোথাও সমুদ্র গর্জে ওঠে…

এ যেন কোনো অজানা শক্তি আবার সব স্মৃতি মুছে দিতে চাইছে।

শেষ দৃশ্য—

অয়ন দৌড়ে সমুদ্রের দিকে যায়, চিৎকার করে বলে,

— "আনা! আমি তোমাকে মনে করতে চাই!"

আর আনা, দূরে দাঁড়িয়ে কাঁদতে কাঁদতে ফিসফিস করে,

— "তুমি কি সত্যিই আবার আমাকে খুঁজে পাবে…?"

🌊✨

চলবে…

More Chapters