বৃষ্টিভেজা এক সন্ধ্যা। কলকাতা শহরের রাস্তা ভিজে চকচক করছে, বাতাসে কফির গন্ধ আর মাটির সোঁদা সুবাস। রিয়া ছাতা হাতে দাঁড়িয়ে আছে পুরোনো এক ক্যাফের সামনে—Flurys। আজ অনেক বছর পর সে দেখা করতে যাচ্ছে অর্ণবের সাথে।
দুজনেই একসময় খুব কাছের ছিল। কিন্তু সময়, ভুল বোঝাবুঝি আর দূরত্ব—সব মিলিয়ে তারা আলাদা হয়ে গিয়েছিল।
রিয়া ক্যাফের দরজা ঠেলে ভেতরে ঢুকতেই তার চোখ থেমে গেল। কোণের টেবিলে বসে আছে অর্ণব। আগের মতোই শান্ত, কিন্তু চোখে যেন অনেক অজানা গল্প জমে আছে।
"তুমি এসেছ…" অর্ণব ধীরে বলল।
রিয়া হালকা হাসল, "হ্যাঁ… আসতেই হলো।"
দুজনেই কিছুক্ষণ চুপচাপ। শুধু বাইরে বৃষ্টির শব্দ আর কাপের চামচের টুংটাং।
অর্ণব ধীরে বলল, "আমি ভেবেছিলাম তুমি আর কখনো আসবে না।"
রিয়া জানালার বাইরে তাকাল। "আমিও ভেবেছিলাম… কিন্তু কিছু সম্পর্ক শেষ হয় না, শুধু থেমে থাকে।"
এই কথাটায় অর্ণবের চোখে এক ঝলক আলো ফুটে উঠল।
কিছুক্ষণ পরে, হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। পুরো ক্যাফে অন্ধকার। শুধু বাইরে রাস্তার আলো এসে হালকা আলোর রেখা ফেলছে।
এই অন্ধকারে অর্ণব ধীরে রিয়ার হাতটা ধরল। তার হাতটা ঠান্ডা ছিল, কিন্তু সেই স্পর্শে এক অদ্ভুত উষ্ণতা।
"রিয়া… আর একবার শুরু করা যাবে?" তার গলায় ছিল ভয় আর আশা মিলিয়ে।
রিয়ার হৃদয় জোরে ধকধক করতে লাগল। এতদিনের জমে থাকা কথা, অভিমান, ভালোবাসা—সব যেন এক মুহূর্তে ভেসে উঠল।
সে ধীরে অর্ণবের দিকে তাকাল… তারপর আস্তে করে তার হাতটা শক্ত করে ধরল।
"এইবার… ছাড়ব না," সে ফিসফিস করে বলল।
ঠিক তখনই আলো ফিরে এল।
কিন্তু তাদের দুজনের জন্য, আসল আলোটা জ্বলে উঠেছিল অনেক আগেই—সেই স্পর্শে, সেই কথায়… আর নতুন করে শুরু করার সাহসে।
