Ficool

UNTitled,Mawlana_Anwar1772902052

Mawlana_Anwar
7
chs / week
The average realized release rate over the past 30 days is 7 chs / week.
--
NOT RATINGS
120
Views
Table of contents
VIEW MORE

Chapter 1 - Unnamed

ছোট গল্প

নারী কুহেলিকা,প্রহলিকা ও অহমিকা

HM Rahmatullah

শীত প্রায় বিদায় নিয়েছে। চারিদিকে বসন্তের রঙবেরঙের সাজ উঁকিঝুঁকি করছে।বৃক্ষের পত্র-পল্লবরাজি কিশলয়ের অপেক্ষায় দল বেঁধে ঝরে ঝরে পড়ছে।ঐ দূরে আকাশের রঙ প্রেয়সীর চোখের মত নীল হতে চলেছে। যার দিকে তাকিয়ে বহু কাল পার করে দেয় যায়।

রোহান করিডোরের কাঠের চেয়ারে বসে আছে। মাথাটা নিচের দিকে ঝুকিয়ে সামনের টেবিলে থাকা খাতায় অনবরত লিখে যাচ্ছে।বাইরে অন্যরকম স্নিগ্ধ বাতাস। জানালা দিয়ে হুরহুর করে ভিতরে ঢুকছে।সুফিয়া দু'কাপ কফি নিয়ে রোহানের পাশে এসে বসল। রোহান সুফিয়াকে দেখে আঁতকে উঠে।তুমি.. তুমি এখানে? সুফিয়া: ওমা! আমার তাহলে কোথায় থাকার কথা? রোহান: আরে না। সেটা বলতে চাইনি। আসলে লেখায় মগ্ন ছিলাম তো তাই।যাই হোক কফি দাও। সুফিয়া: আচ্ছা তুমি খাতায় কী লিখছ? রোহান: (কফিতে এক চুমুক দিয়ে) কবিতা লিখছি। সুফিয়া: কাকে নিয়ে লিখছ? রোহান: কী যে বল তুমি! আমি আবার কাকে নিয়ে লিখব! তুমিই তো আমার কবিতা।সুফিয়া: হয়েছে হয়েছে। আর বলতে হবেনা। দাও পড়ে দেখি—কী এমন লিখেছ। সুফিয়া টেবিল থেকে হাতে বাঁধাই করা খাতাটা নিয়ে পড়তে শুরু করে। তাতে লেখা—

❝প্রিয় সুফিয়া

—রোহান

আমার হৃদয়কাঁড়া হরিণী চোখের নারী

নুপুর পরে লাল শাড়িতে মোর প্রেমনগরী।

এক হাসিতে দুঃখ কালের দহন দাও ভুলিয়ে

গভীর ক্ষণে ঘুম পাড়াও ঠোঁটের ছোয়া দিয়ে।

কোথায় তোমায় পেলাম আমি কী যে ভাগ্য মোর

চাঁদ-তারা করে হিংসা,তোমায় দেখে হয় ভোর।❞

রোহান! তুমি আমায় কতটা ভালোবাসো? রোহান: তোমাকে আমি মহাকাশ মহাবিশ্ব পরিমান ভালোবাসি। তার চেয়েও যদি বেশি কিছু থেকে থাকে তবে তার চেয়েও বেশি পরিমান আমি তোমাকে ভালোবাসি।

২/

কবিতাটা কেমন লেগেছে তোমার? সুফিয়া: তোমার লেখা কী কখনো সুন্দর হয়েছে যে ভালো লাগবে? রোহান: এত কষ্ট করে তোমার জন্য লিখলাম আর তোমারই পছন্দ হয়নি।থাক তাহলে আর লিখব না।কবিতা লেখা ছেড়ে দিব তাহলে। সুফিয়া: এই না.. ভুলেও না। কোন ছাড়াছাড়ি হবেনা।তোমার কবিতা সুন্দর হয়েছে।আমার পছন্দও হয়েছে। তুমি সবসময় কবিতা লিখবে।

রোহান মুচকি হেসে মনে মনে বলছে— 'এবার কাজ হয়েছে। যখন বুঝতে পারলো কবিতা না লিখলে তার এত এত প্রশংসা কিছুই হবেনা তখনই মত ঘুরিয়ে ফেলল।'

আচ্ছা ঠিক আছে আমি সবসময় কবিতা লিখব। এখন যাও রান্নাঘরের কাজ শেষ কর। আমার আরো কিছু লেখা বাকি আছে। পত্রিকার কাজও এখনো শেষ হয়নি। আর মাত্র দুয়েক দিন আছে। তারপরই প্রেসে দিতে হবে। দিন-রাত এক করে কাজ করতে হবে।শেষ করে আমাকে একটু সাহায্য করবে। সুফিয়া: ঠিক আছে। আমি শেষ করেই আসব।

৩/

সুফিয়া রান্নাঘরে দুপুরের খাবার রাঁধতে চলে যায়। রোহান ল্যাপটপে মেগাজিনের কাজ শুরু করে। মেগাজিনের নাম বৃষ্টিকন্না। এ মাসে প্রচুর লেখা এসেছে বৃষ্টিকন্নায়। কোনটার চেয়ে কোনটার মান কম উন্নত নয়। রোহানের বৃষ্টিকন্না এখন প্রায় দু'লাখের মত পাঠক পড়ে। আজ থেকে দশ বছর আগে খুব সাদামাটাভাবে বৃষ্টিকন্না যাত্রা শুরু করে। তখনকার অবস্থা আর এখনকার পাঠকপ্রিয়তা দেখে রোহান খুশিতে মুচকি হাসে। আনন্দেরই কথা— দিন-রাত পরিশ্রম করে সে এর পিছনে খেটেছে। বহু রাত তার নির্ঘুম কেটেছে। বৃষ্টিকন্নার প্রতি রোহানের অকৃত্রিম প্রেম-ভালোবাসা কঠোর শ্রম-সাধনারই ফসল আজকের এত পাঠকপ্রিয়তা।প্রায় দু'লাখের মত ছাপা হয়। আর পুরোটাই শেষ হয়ে যায়। তবে এবারের সংখ্যা বৃষ্টিকন্নার এত দিনের পথ চলায় ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে। এবার হয়ত বৃষ্টিকন্নার পাঠকপ্রিয়তা আরো বৃদ্ধি পাবে। বাংলাদেশের সমকালীন দু'জন বিশিষ্ট ঔপন্যাসিক তাদের নতুন উপন্যাস ধারাবাহিকভাবে পর্ব আকারে বৃষ্টিকন্নায় ছাপাতে বৃষ্টিকন্না পরিবারের নিকট আবেদন করেছেন। এবং তাঁরা তাদের প্রথম পর্ব পাঠিয়ে দিয়েছেন।এবার হয়ত বৃষ্টিকন্না নতুন কিছু পাবে।

৪/

এশারের নামাজ পড়ে খাবারদাবারের পর্ব শেষ করে করিডোরে এসে দাড়িয়েছে রোহান। এখন আর ল্যাপটপ নিয়ে বসতে মন চাচ্ছে ন। আশেপাশে কয়েক কিলোমিটার জায়গা ফাঁকা পড়ে আছে।অতটা উচু ভবন নেই। যার ফলে রোহানের করিডোর থেকে প্রাকৃতিক আবহাওয়া বেশ উপভোগ করা যায়।রোহান আকাশের দিকে তাকিয়ে অবাক হয়। চারিদিকে চাঁদ থেকে পূর্নিমার রশ্মি বৃষ্টির মত ঝরছে।কবে সুফিয়াকে নিয়ে একসাথে শেষ পূর্নিমা কাটিয়েছে রোহানের মনে পড়ছেনা।সারাদিন কাজের যে ধকল যায় এত কিছু মনে রাখার সময় কোথায়। আজ ছুটির দিন।তাকদীরের কী লীলাখেলা—আজই পূর্নিমা।

সুফিয়া এতক্ষণে রোহানের পাশে এসে দাড়িয়েছে।সুফিয়ার কোমল হাত রোহানের কাঁধ স্পর্শ করলো।

রোহান হাতটা নিয়ে একটা চুমু খেল।সুফিয়াকে নিয়ে আকাশ মুখি হয়ে করিডোরের চেয়ারে বসল রোহান।

রোহান সুফিয়ার মাথাটা আলতো করে নিজের কোলে রাখলো। সুফিয়াকে জরিয়ে ধরে রোহান কবিতা বলতে শুরু করল—

❝ সুফিয়া তুমি এই পূর্নিমার চেয়েও সুন্দর

যত সুন্দর আছে এ ধরায় তুমি তার বন্দর।

পূর্নিমার যত কিরণ তোমার আলোয় সব তুচ্ছ

তোমায় নিয়ে লিখলে হবেনা শেষ গল্পগুচ্ছ। ❞

আচ্ছা রোহান! তোমরা পুরুষরা নারীদের নিয়ে কত কিছু কর। নারীকে নিয়ে কত গল্প-উপন্যাস ছন্দ-কবিতা তোমরা রচনা করেছ। কেন?

রোহান: নজরুলের গল্পে একজন বলে—নারী কুহেলিকা। আরেকজন বলে—নারী প্রহেলিকা।অন্যজন বলে—নারী অহমিকা। আসলে নারী এই তিন গুনেরই অধিকারী। যার কারনে পুরুষরা নারীর কুহেলিকায় পথ হারায়। পথ খুঁজে না পেয়ে আটকে যায় নারীতে।প্রহেলিকায় বিভ্রান্ত হয়। দিশা না পেয়ে পরে যায় নরীর আচলে।অহমিকায় হেসে উঠে। হাসতে হাসতে ফেসে যায় নারীর পাতানো ফাঁদে। ফলে রচিত হয় পৃথিবীর মহাকাব্য,বিক্ষাত সব উপন্যাস।

৫/

বৃষ্টিকন্না লাইব্রেরিতে চলে এসেছে দু'দিন হল। জনপ্রিয় দুই ঔপন্যাসিকের উপন্যাসের প্রথম পর্ব ছাপা হয়েছে।দেশের প্রথম সারির দৈনিক পত্রিকগুলোর সাহিত্য পাতায় বৃষ্টিকন্নার এড দেয়া হয়েছে। এবার শুধু পাঠকের হাতে হাতে পৌঁছানো বাকি।প্রত্যেক জেলায় বৃষ্টিকন্নার এজেন্টদের কাছে বৃষ্টিকন্না পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। এবারের সম্পাদকিয়ও হয়েছে বিগত সংখ্যাগুলোর থেকে একদম ব্যতিক্রম—"নারী কুহেলিকা, প্রহেলিকা ও অহমিকা"।

পঞ্চম দিন প্রকাশনী থেকে ফোন এলো। রোহান ফোন ধরে বলল—ভাই কোন সমস্যা হয়েছে কী?

প্রকাশক: না ভাই। কোন সমস্যা হয়নি।কিন্তু অন্য কিছু হয়েছে।রোহান: কী হয়েছে ভাই? প্রকাশক: বৃষ্টিকন্না এবার দশ লাখ ছাপা হয়েছে। এখন লাইব্রেরিতে আছে শুধু বিশ হাজার। রোহান: বলেন কী ভাই! প্রকাশক: হ্যা ভাই। রোহান: আলহামদুলিল্লাহ ভাই।আল্লাহ তায়ালা বৃষ্টিকন্নাকে কবুল করেছেন।সর্বপ্রকার সফলতা তারই। রোহান ফোন কেটে দিতেই চোখ পড়ে আজকের দৈনিক পত্রিকায়। পত্রিকা খুলে সাহিত্য পাতায় যেতেই রোহান দেখে বড় একটি হেডলাইন — "নারী কুহেলিকা, প্রহেলিকা ও অহমিকা"।

৬/

সুফিয়া খাটে বসে আছে।রোহান গিয়ে সুফিয়াকে ঝরিয়ে ধরল। সুফিয়া! বাকি জীবনটা তোমাতেই কাটিয়ে দিতে চাই। সুফিয়া: কেন? রোহান: কারণ

"নারী কুহেলিকা, প্রহেলিকা ও অহমিকা"।

সুফিয়াও রোহানকে ঝরিয়ে ধরেছে।চোখ বন্ধ করে মিটিমিটি হাসছে।