রাশেদ প্রতিদিন একই কালো জীনটা পরে বের হয়। জীনটা আর নতুন নেই—হাঁটুর কাছে একটু ফ্যাকাসে, পকেটের সেলাই ঢিলা, তবুও রাশেদের কাছে এটিই সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য। কারণ এই জীন জানে, কীভাবে দায়িত্ব বইতে হয়।
সকালের বাসস্ট্যান্ডে দাঁড়িয়ে সে চারপাশ দেখে। ঝকঝকে জামা-প্যান্ট পরা লোকজন, দামি জুতা, মোবাইলে ব্যস্ত জীবন। রাশেদ চুপচাপ লাইনে দাঁড়িয়ে থাকে। কেউ তাকে দেখে না, দেখার প্রয়োজনও বোধ করে না। সমাজ এমনই—চেনা হয় দামে, পোশাকে, কথার জাঁকজমকে।
রাশেদের বাবা অসুস্থ। মা বাসায় সেলাইয়ের কাজ করেন। ছোট বোনটার স্কুল ফি বাকি। এই সব হিসাব রাশেদের মাথায় ঘোরে, আর কালো জীনের পকেটে থাকে ভাঁজ করা কয়েকটা নোট—অল্প, কিন্তু ঘামের দাম দেওয়া।
অফিসে ঢুকতেই সুপারভাইজারের কণ্ঠ,
"আজ দেরি কেন?"
রাশেদ কিছু বলে না। দেরির কারণ ব্যাখ্যা করার সময় তার নেই, সমাজও শোনে না। চুপচাপ কাজ শুরু করে দেয়।
লাঞ্চ ব্রেকে সহকর্মীরা হাসাহাসি করে। কেউ নতুন ফোন কিনেছে, কেউ ঘুরতে যাওয়ার প্ল্যান করছে। রাশেদ জানালার পাশে বসে চা খায়। তার কালো জীনের ওপর পড়ে দুপুরের আলো। এই জীনের ভাঁজে ভাঁজে জমে আছে না বলা কথা—স্বপ্ন, ক্লান্তি, আর কিছু না পাওয়া প্রশ্ন।
রাতে বাড়ি ফেরার সময় বৃষ্টি নামে। রাশেদ ভিজে যায়, কালো জীনটা আরও ভারী হয়ে ওঠে। তবুও সে হাঁটে। কারণ থামলে চলবে না। এই সমাজে থামার সুযোগ শুধু তাদেরই আছে, যাদের পেছনে নিরাপত্তার দেয়াল রয়েছে।
বাসায় ঢুকে মা জিজ্ঞেস করেন,
"খুব ক্লান্ত লাগছে?"
রাশেদ হালকা হাসে।
"না মা, ঠিক আছি।"
এই "ঠিক আছি"-র ভেতরেই লুকিয়ে থাকে সব কষ্ট। কালো জীনের মানুষরা এমনই—নিজের দুঃখ লুকিয়ে রেখে অন্যদের বাঁচিয়ে রাখে।
সমাজ হয়তো তাদের নাম জানে না, মুখ মনে রাখে না। কিন্তু শহরের প্রতিটা আলো জ্বলে থাকে এই কালো জীন পরা মানুষগুলোর নিরব পরিশ্রমে।
Thanks you for reding our books
. tt.
